ব্রেকিং নিউজ :
হরমুজ প্রণালির দুই প্রান্তে আটকা শত শত জাহাজ রাজপথ ও সংসদে শক্ত অবস্থানে থাকবে এনসিপি: নাহিদ ১৯৯১ সালের পর আবারও নরসিংদীর ৫ আসনে বিএনপির জয় : ড. মঈন খান রাষ্ট্রপতির কাছে পিএসসি’র বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ খামেনির হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের ‘লঙ্ঘন’:শেহবাজ শরিফ পরিবারের সুরক্ষায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ সরকারের একটি অগ্রাধিকার কর্মসূচি : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনেই অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশগুলো উপস্থাপন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খামেনি হত্যাকাণ্ড ‘মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা’: ইরানের প্রেসিডেন্ট ফেব্রুয়ারি মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ ১৯.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে
  • প্রকাশিত : ২০২৩-১০-০৮
  • ৭০১৬ বার পঠিত
  • নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃষ্টির পানি ট্যাংকে ধরে রেখে সুপেয় পানি পানের সুযোগ পেয়েছে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার প্রায় ৮ হাজার পরিবারের ২৫ হাজার মানুষ । এ পানি  রান্নার কাজে ব্যবহার করছেন গৃহবধূরা। এতে পুকুর বা নলকূপ থেকে পানি বহন করে আনার কষ্ট লাঘব হয়েছে। তাদরে জীবন সহজ করে দিয়েছে  বৃষ্টির পানি।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ৫ ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ৭ হাজার ৮শ' ৬৫ টি রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং ট্যাংক স্থাপন করেছে দিয়েছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। উপকূলীয় জেলা সমূহে সুপেয় পানির অভাব দূর করতে রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং প্রকল্পের আওতায়  ৩ হাজার লিটার পানি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ট্যাংক স্থাপন করে দেওয়া হয়েছে।  প্রতি পরিবারের কাছ থেকে পানির ট্যাংক স্থাপন বাবদ সরকার নির্ধারিত সহায়ক চাঁদা হিসেবে নেওয়া হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৫০০ টাকা।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কার্যালয়ে থেকে এসব তথ্য  জানাগেছে। ওই কর্যালয় থেকে আরো জানাগছে, টুঙ্গিপাড়া উপজেলার  ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার বেশিরভাগ স্থানে গভীর নলকূপ স্থাপন করা যায় না । অন্যদিকে নলকূপের পানি লবণাক্ত ও আর্সেনিক যুক্ত। তাই সুপেয় পানির সংকট দূর করতে  বৃষ্টির পানি ধরে রাখতে পানির ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের টুঙ্গিপাড়া উপসহকারী প্রকৌশলী প্রদীপ মজুমদার বলেন, বৃষ্টি হলেই ঘরের চালের নিচে বসানো পাইপ থেকে পানি ফিল্টারে যায়। তখন ফিল্টার থেকে ভালো পানি ট্যাংকের ভিতরে গিয়ে পড়ে। আর ময়লাযুক্ত পানি ওয়াস আউটের মাধ্যমে বাইরে পড়ে যায়।  ট্যাংকে থাকা ট্যাপ ঘোড়ালেই পানি মেলে । কোন ঝামেলা ছাড়াই সুপেয় পানি পাচ্ছে ৭ হাজার ৮শ’৬৫ পরিবারের অন্তত ২৫ হাজার মানুষ । এই পানি দিয়েই খাওয়া ও রান্নাসহ সংশ্লিষ্ট কাজে ব্যবহার করছে উপকারভোগীরা। ৩ হাজার লিটার ট্যাংকটিতে পানি ভর্তি থাকলে কয়েক মাস বৃষ্টি না হলেও তাদের সুপেয় পানি সমস্যা হবে না। ৩/৪ সদস্যের একটি পরিবার ৩ হাজার লিটার ট্যাংকটিতে বৃষ্টির পানি ধরে রেখে প্রায় সার বছরই পান করতে পারবে।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বৃষ্টির পানি পান করলে শরীরে জমে থাকার টক্সিন বের হয়ে যায়। সেই সঙ্গে হজম ক্ষমতার উন্নতি ও রক্তের পিএইচ স্বাভাবিক মাত্রায় নিয়ে আসে। ফলে শরীরে অ্যাসিডিটির মাত্রা কমে গিয়ে রোগের প্রকোপ কমে আসে। বৃষ্টির পানিতে আছে অ্যালকালাইন উপাদান। যা পিএইচ ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি রুখে দেয়।
উপকারভোগী কুশলী ইউনিয়নের গৃহবধূ আলেয়া বেগম বলেন, আমাদের এত টাকা নেই, যে পানি কিনে খাবো। তাই দূর থেকে পানি বহন করে এনে তারপর পান করতে হতো। আর নলকূপ বা পুকুরের পানি দিয়ে রান্না করতাম। এতে আমাদের কষ্টের সীমা ছিলো না। সরকার থেকে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ট্যাংক দেয়ায় খুব উপকার হয়েছে।
বর্নি ইউনিয়নের ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা খালেদা খাতুন বলেন, এত বড় পানির ট্যাংক পেয়ে আমরা খুবই খুশি। বৃষ্টি হলে পানি ট্যাংকিতে গিয়ে পরিস্কার পানি জমা হয়। এ পানি দিয়েই চলে খাওয়া ও রান্না সহএ সংশ্লিষ্ট সব কাজ।
গিমাডাঙ্গা গ্রামের মহিব বিশ্বাস বলেন, বৃষ্টির পানি ট্যাংকে ধরে রাখায় আমাদের সুপেয় পানির অভাব দূর হয়েছে। ট্যাপ ঘোড়ালেই পানি পড়ছে। আর ধরে রাখা পানিতে কোন গন্ধ নেই। এত কম খরচে এ সুবিধা পাবো কখনো কল্পনাও করতে পারিনি ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
#
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat