ব্রেকিং নিউজ :
সদর দপ্তর বন্ধ করছে ন্যাশনাল ব্যাংক অব কুয়েত আগামী রোববার থেকে হামের টিকা দেওয়া শুরু হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিয়ানমারে ভূমিকম্পের এক বছর পরও পুনর্গঠনে ধীরগতি নাগরিক সেবা কার্যক্রম সরাসরি প্রত্যক্ষ করলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের শুনানি: আদালতে থাকছেন ট্রাম্প সংসদে প্রথমবারের মতো প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চুক্তি হোক বা না হোক, 'খুব শিগগিরই’ ' ইরান ছাড়বে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প ন্যাটোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন করবে যুক্তরাষ্ট্র: পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও চূড়ান্ত হলো ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ১২টি গ্রুপ ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এবার ইউরোপ-আমেরিকার ৫২ প্রেক্ষাগৃহে
  • প্রকাশিত : ২০২৫-১১-২৪
  • ৩৪৩৬৮৬ বার পঠিত
  • নিজস্ব প্রতিবেদক
ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। ফাইল ছবি
ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন, ভূমি মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক স্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এ জন্য দেশের সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজন ভূমির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা।

এ লক্ষ্যে ভূমি মন্ত্রণালয় জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমিসেবা নিশ্চিতকরণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অটোমেটেড মিউটেশন সিস্টেম ২.১ চালুর মাধ্যমে ভূমিসেবায় হিউম্যাস টাচ আরও কমিয়ে ফেলা হয়েছে।

নামজারির জন্য নাগরিকদের মাত্র একবার উপজেলা ভূমি অফিসে আসতে হবে। এর মাধ্যমে জালিয়াতি করে নামজারি ও ভূমি হস্তান্তর প্রতিরোধ করা যাবে। ভূমিসেবায় নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে ‘ভূমি’ অ্যাপ, হাতের মুঠোয় ভূমিসেবা।

ভূমি অ্যাপ এর মাধ্যমে নাগরিক ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান ও দাখিলা সংগ্রহ, নামজারির ফি প্রদান, ডিসিআর ও খতিয়ান সংগ্রহ এবং খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি ও মৌজা ম্যাপ সংগ্রহ করতে পারবেন। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ভূমিসেবা ‘ভূমি’ অ্যাপ-এর মাধ্যমে প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে।

আজ রাজধানীর ভূমি ভবনের সেমিনার হলে ‘অটোমেটেড মিউটেশন সিস্টেম ২.১ ও ভূমিসেবার ইন্টিগ্রেটেড মোবাইল অ্যাপ ‘ভূমি’ এর শুভ উদ্বোধন’ এবং ভূমিসেবা সিস্টেমে জয়পুরহাট জেলার শতভাগ খতিয়ান ও হোল্ডিং এর নির্ভুল তথ্য উন্মুক্ত করণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তাদের ভূমিসেবার বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার ২০২৫ প্রদান করা হয়।

ভূমি উপদেষ্টা বলেন, প্রযুক্তির মধ্যে আমরা নিজেদের যত বেশি সম্পৃক্ত করবো আমাদের ভোগান্তি তত কমবে। অন্যদিকে ভূমিসেবার সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপর নির্ভরতা অনেক হ্রাস পাবে।

অটোমেটেড মিউটেশন সিস্টেম ২.১ ব্যবস্থায় নামজারি হওয়ার সাথে সাথে পূর্ববর্তী মালিকের খতিয়ান থেকে জমি কর্তন হয়ে নূতন মালিকের খতিয়ানে চলে যাবে। এর ফলে তথ্য গোপন করে জালিয়াতির মাধ্যমে একই জমি একাধিকবার বিক্রয় করার সুযোগ বন্ধ হবে।

এছাড়া, নামজারির সাথে সাথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হোল্ডিং তৈরি হয়ে যাবে এবং ভূমি মালিক অ্যাপ’স এর মাধ্যমে ঘরে বসে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে পারবেন। এতে দুর্নীতি ও জন-হয়রানি অনেক কমে যাবে।

তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো যন্ত্রের পিছনের মানুষটার মানসিকতা। সেই মানুষটার উন্নত মানসিকতাই নিশ্চিত করবে জনবান্ধব ভূমিসেবা। সারাদেশে ভূমিসেবা সিস্টেমে শতভাগ খতিয়ান ও হোল্ডিং এন্ট্রি করা এবং ভুল সংশোধনের জন্য ইউএনডিপি, বাংলাদেশ এর মাধ্যমে কাজ শুরু করা হয়েছে। এবছরের ১৩ আগস্ট ফেনী জেলায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। বর্তমানে ৮টি জেলায় পাইলটিং প্রায় শেষ পর্যায়ে।

পর্যায়ক্রমে শতভাগ খতিয়ান ও হোল্ডিং এন্ট্রি এবং ভুল সংশোধনের এ কার্যক্রম সারা দেশে বাস্তবায়িত হবে। এর মাধ্যমে ভূমিসেবা সিস্টেম আরও সহজ, জনবান্ধব ও স্বয়ংক্রিয় হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ‘ভূমি’ অ্যাপ নিজে ব্যবহার করার পাশাপাশি জনগণকে ব্যবহারে উৎসাহিত করতে হবে।

ভূমি ব্যবস্থাপনায় জনগণকে ঝামেলাহীন সেবা প্রদানে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি ভূমি সেবার জন্য যে সফ্‌টওয়্যার তৈরি করা হবে, তা যেন নাগরিকদের ব্যবহার বান্ধব হয়-সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ভূমি সেবার ইন্টিগ্রেটেড মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারের সময় সার্ভার অবশ্যই নিরাপদ রাখতে হবে, যাতে ডেটা সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়। দিনশেষে পেপার লেস ভূমি ব্যবস্থাপনার স্বপ্ন দেখেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ভূমিসেবায় কর্মকৃতি-ভিত্তিক মূল্যায়ন করে আট বিভাগের ৮ জন শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, ৮ জন সার্ভেয়ার, ৭ জন কানুনগো, ৯ জন সহকারী কমিশনার (ভূমি), ৮ জন রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর, ৮ জন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), ৮ জন জেলা প্রশাসক ও ২ জন বিভাগীয় কমিশনারকে সনদ ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী  ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব)এ. জেড এম সালাহউদ্দিন নাগরী এবং ইউএিনডিপি-বাংলাদেশ এর সিনিয়র প্রোগ্রাম আ্যাডভাইজার-গভর্নেন্স ড্রাগান পপোভিচ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
#
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat