জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। ফাইল ছবি
সমালোচনা ও নানামুখী চাপের মধ্যেও বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা বজায় রাখার জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (জুজা)’র প্রশংসা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান।
তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকতা এমন একটি পেশা, যেখানে সত্য বললেই সব সময় প্রশংসা পাওয়া যায় না। সাংবাদিকদের কঠিন ও অনেক সময় অস্বস্তিকর কাজ করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হয়। তবে সে কাজ অবশ্যই সত্যের আলোকে পরিচালিত হতে হবে।’
আজ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জুজার উদ্যোগে আয়োজিত ‘অরুণোদয়’ শীর্ষক স্মারক উন্মোচন ও একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য এসব কথা বলেন।
বিগত বছরগুলোতে জুজার ভূমিকার প্রশংসা করে ড. কামরুল আহসান বলেন, সংগঠনটি সব সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ সংরক্ষণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ‘বিভিন্ন সময়ে হামলা ও আন্দোলনের মুখে পড়লেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সংগঠন কখনো বিচলিত হয়নি,’ তিনি যোগ করেন।
পেশাদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, সাংবাদিকদের আবেগ ও তথ্যের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য বজায় রাখতে হবে। ‘যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ কিংবা সংকটের সংবাদ পরিবেশনে আবেগ কখনোই বস্তুনিষ্ঠতার বিকল্প হতে পারে না,’ বলেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক অনিয়মের বিরুদ্ধে অতীত আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সে সময় জুজার সদস্যরা হয়রানির শিকার হলেও সত্য থেকে সরে আসেননি। ‘তারা নিপীড়ন সহ্য করেছেন, কিন্তু পেশাগত সততার সঙ্গে কখনো আপস করেননি,’ উল্লেখ করেন উপাচার্য।
জুলাইয়ের ঘটনাবলি নথিবদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়ায় জুজাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যখন ভুয়া তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, তখন স্মৃতি সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সত্য রক্ষার লড়াইয়ে দৃঢ় থাকতে হবে। প্রয়োজনে একা দাঁড়িয়েও এই সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।