ব্রেকিং নিউজ :
বেসরকারি সংগঠন ‌‘পাশা’র নির্বাচন পর্যবেক্ষক কার্ড স্থগিত কক্সবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ৩টি বসতবাড়ি ভস্মীভূত পিরোজপুরে আনসার ও ভিডিপি'র নির্বাচনী প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ আত্মনির্ভরতার পথে বিআরটিসি : দুটি আধুনিক এসি বাস উদ্বোধন সুনামগঞ্জে নির্বাচন বিষয়ে মতবিনিময় সভা হেটমায়ারের ব্যাটিং ও শেফার্ডের হ্যাটট্রিকে শুভ সূচনা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার খবরে মন ভালো রাখতে যা করতেন হিনা খান তারেক রহমানের নীরব মানবিক দিক নিয়ে তথ্যচিত্র ‘সবার আগে হাসিমুখ’ ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : সালাহউদ্দিন আহমদ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচনী প্রচারণায় সন্তোষ প্রকাশ প্রধান উপদেষ্টার
  • প্রকাশিত : ২০১৮-০৪-১২
  • ৫৭৭ বার পঠিত
  • নিজস্ব প্রতিবেদক
ধর্ষণের পরীক্ষায় ‘টু ফিঙ্গার’ নিষিদ্ধ
নিজস্ব প্রতিনিধি:-  ধর্ষণের শিকার নারীর মেডিক্যাল পরীক্ষায় ‘টু ফিঙ্গার’ (দুই আঙ্গুলের মাধ্যমে ধর্ষণের পরীক্ষা) পদ্ধতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ধর্ষণের শিকার নারীর মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য হেলথ কেয়ার প্রটোকলে বর্ণিত পদ্ধতি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। টেস্টের সময় নারীর আত্মীয়, চিকিৎসক, পুলিশ, নারী নার্স রাখতে বলা হয়েছে। বিচারকালে আইনজীবী কখনো ধর্ষিতাকে অমর্যাদাকর প্রশ্ন করতে পারবে না। সেমিনার করতে হবে। নীতিমালা সবার কাছে পৌঁছাতে হবে বলে রায়ে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি এ কে এম সাহিদুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে গত বছরের আগস্ট মাসে ধর্ষণের শিকার নারীর মেডিক্যাল পরীক্ষায় ‘টু ফিঙ্গার’ পদ্ধতি সেকেল ও অনৈতিক বলে হাইকোর্টে মতামত উপস্থাপন করেন পাঁচ ফরেনসিক মেডিক্যাল বিশেষজ্ঞ। বিশেষজ্ঞরা আদালতে বলেন, ‘এ পদ্ধতি সেকেলে। যৌন নির্যাতনের পরীক্ষার আধুনিক অনেক পদ্ধতি আবিস্কার হয়েছে। ‘টু ফিঙ্গার’ পদ্ধতি অনৈতিক।’ ঢাকা মেডিক্যিাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রাক্তন প্রধান ডা. হাবিবুজ্জামান চৌধুরী, একই হাসপাতালের ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইল ল্যাবরেটরির প্রধান ডা. সাফিউর আখতারুজ্জামান, মিরপুরের ডেল্টা মেডিক্যাল  কলেজের প্রিন্সিপাল ডা. জাহিদুল করিম আহমেদ, বারডেম হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিনের প্রফেসর ডা. গুলশান আরা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক এসোসিয়েশন অব ল, মেডিসিন অ্যান্ড সায়েন্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট মুজাহিরুল হক এ মতামত দেন। সনাতন পদ্ধতিতে (দুই আঙ্গুলের মাধ্যমে ধর্ষণের পরীক্ষা) ধর্ষণের পরীক্ষা করার কারণে অনেক ভিকটিম পরীক্ষা করতে আসে না। আর এ কারণে অনেকে ধর্ষিত হয়েও বিচার পায় না। ভারতে এ পদ্ধতি বাতিল করা হয়েছে। নতুন পদ্ধতি প্রবর্তন করার জন্য এ আবেদন করা হয়েছে। যাতে সঠিক পরীক্ষার পর ভিকটিমরা সুবিচার পায়। এসব বিষয় নিয়ে ২০১৩ সালের ৮ অক্টোবর মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, ব্র্যাক, মানুষে জন্য ফাউন্ডেশন, নারী পক্ষ এবং ডাক্তার রুচিরা তাবাচ্ছুম ও ডাক্তার মোবারক হোসেন খান রিট আবেদনটি দায়ের করেন। এরপর আদালত ধর্ষণের পরীক্ষায় নীতিমালা তৈরির নির্দেশনা দেন হাইকোর্ট। পুলিশ, চিকিৎসক, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের জন্য সমন্বিত ওই নীতিমালা তৈরি করে তা তিন মাসের আদালতে দাখিল করতে বলা হয়। স্বাস্থ্য সচিবকে এই নীতিমালা করার জন্য একটি কমিটি গঠনেরও আদেশ হয়। পাশাপাশি রুলও জারি করেন। এ আদেশের পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে সভাপতি করে ১৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন স্বাস্থ্য সচিব। ওই কমিটির পক্ষ থেকে হাইকোর্টে একটি নীতিমালা দাখিল করেন। সেখানে ধর্ষিত নারীর সঙ্গে হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের, পুলিশ, ডাক্তারসহ সবাইকে কেমন আচরণ করতে হবে ওই নীতিমালায় তা পৃথকভাবে উল্লেখ করা হয়। এ অবস্থায় আদৌ এই ‘টু ফিঙ্গার’ পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা আছে কি না-সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত নেওয়ার জন্য রিট আবেদনকারীরা আদালতের কাছে আবেদন জানায়। সে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৭ আগস্ট ৫ চিকিৎসককে ১৬ আগস্ট আদালতে উপস্থিত থাকতে বলেন হাইকোর্ট। সেই মোতাবেক চিকিৎসকরা হাইকোর্টে এসে মতামত দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
#
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat