ব্রেকিং নিউজ :
এবারের নির্বাচন হারিয়ে যাওয়া রাজনৈতিক অধিকার পুনরুদ্ধারের ঐতিহাসিক সুযোগ: তারেক রহমান ভোট চোরদের ঠিকানা এখন দিল্লি: আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়া পিরোজপুরে বিএনপি’র নির্বাচনী জনসভা মেহেরপুরে বিএনপি’র নির্বাচনী সমাবেশ বাউফলে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৪০ রাষ্ট্র পুনর্গঠনই বিএনপির প্রধান লক্ষ্য: তারেক রহমান নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্পের আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট ডিপি ওয়ার্ল্ড জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ‘সজাগ’ অ্যাপসহ ৫ অটোমেশন উদ্বোধন জনগণ পুরানো বন্দোবস্তের বস্তাপচা রাজনীতি আর ফিরিয়ে আনতে চায় না: ডা. শফিকুর রহমান মুসলিম বিশ্বকে শিক্ষায় আরও বেশি বিনিয়োগ করতে হবে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
  • প্রকাশিত : ২০২৬-০২-০৮
  • ৬৫৭৬৭০০ বার পঠিত
  • নিজস্ব প্রতিবেদক
জামায়াতের মিছিলে বিএনপির হামলার প্রতিবাদে বাউফল থানার ওসির প্রত্যাহার দাবিতে থানার সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত
পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে দাঁড়িপাল্লা ও ধানের শীষ প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন নেতা-কর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে ২৪ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চারজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে নদীবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে প্রথম দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে বিকেল পৌনে চারটার দিকে পৌর শহরে আবারও দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে প্রচারণাকালে জামায়াতের সমর্থকেরা এক ভোটারকে ৫০০ টাকা দেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত বিএনপির এক কর্মী বিষয়টি ভিডিও করতে গেলে জামায়াত কর্মীদের সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে খবর ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসংলগ্ন এলাকায় বিএনপির এক কর্মীকে ধাওয়া দিলে বিএনপির নেতা-কর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে পাল্টা ধাওয়া দেন। এতে ওই এলাকায় ফের উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
তার কিছুসময় পরে বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী একটি সমাবেশে যাওয়ার পথে বাউফল থানার ফটকে তার গাড়ি আটকে দেয় জামায়াত সমর্থকরা। খবর পেয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে সেখানেও বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এরপর উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ও কয়েকটি স্থানে জামায়াত সমর্থকদের সঙ্গে বিএনপি সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। বর্তমানে প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। তবে পৌর শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
এদিকে, ঘটনার পরে বাউফল থানার ওসি মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে থানা ঘেরাও করে রাখেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা। দীর্ঘ দুই ঘণ্টা থানা ঘেরাও করে বাউফল-ঢাকা মহাসড়ক অপরোধ করে রাখার পরে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও সালেহ আহমেদ, পটুয়াখালীর সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ মোহাম্মদ শাকুর, সেনাবাহিনী ও কোস্টগার্ড সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, ওসি মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান নির্বাচন পর্যন্ত কোনো দায়িত্ব পালন করবে না, এ ঘোষণার পরে সড়ক ছেড়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা।
এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ইসহাক মওলানা জানান, টাকা দেওয়ার অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। চন্দ্রদ্বীপে জামায়াতের প্রচারণা চলাকালে অতর্কিত হামলা চালায় বিএনপি নেতা-কর্মীরা। এ ঘটনায় তাদের প্রায় ২০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।
এছাড়া উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক তসলিম তালুকদার বলেন, বিএনপির নিরংকুশ বিজয় বুঝতে পেরে নানান ষড়যন্ত্র করছে জামায়াত। পাশাপাশি পরিকল্পিত ভাবে জামায়াত এই সংঘর্ষের সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ তার। 
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বাউফলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে আছে। আজকের ঘটনায় জড়িতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
#
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat