ব্রেকিং নিউজ :
জিয়া পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের মাগফিরাত কামনায় কোরআন প্রতিযোগিতা চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে ভোক্তা অভিযানে ৭ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা চাঁদপুরের পাঁচটি আসনে ২৫ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত মাগুরায় হোটেলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, মালিককে জরিমানা এবারের নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকবে : প্রধান উপদেষ্টা শপথ অনুষ্ঠানে হেফাজত আমিরকে তারেক রহমানের আমন্ত্রণ কাল সংসদ ভবন কমপ্লেক্সে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি চরমোনাই পীরের বাসায় তারেক রহমান কাল সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন সিইসি সরকার চাইলে সব ধরনের সহায়তা করবে জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান
  • প্রকাশিত : ২০২৬-০২-১৬
  • ৩৪৫৪৬৮৯ বার পঠিত
  • নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুরের ৫টি সংসদীয় আসনে ৩৬ প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ২৫ প্রার্থী। 

নির্বাচনের বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো সংসদীয় আসনে প্রার্থী বৈধ ভোটের আট ভাগের এক ভাগ বা কমপক্ষে ১২ শতাংশ ভোট না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। ফলাফল প্রকাশের পর দেখা গেছে, ৩৫ প্রার্থীর মধ্যে ২৫ জন নির্ধারিত ভোটের সীমা অতিক্রম করতে পারেননি। যার ফলে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এমনও প্রার্থী আছেন যারা ১ হাজার ভোটও পাননি।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৪ প্রার্থীর পাশাপাশি ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ বাহাদুর শাহ্ মোজাদ্দেদী জামানত হারিয়েছেন। এক সময় সরকারে থাকা প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টি ৪টি আসনে অংশ নিয়ে পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৪৬ ভোট। আর গণফোরাম তিনটি আসনে পেয়েছেন ৮৭৬ ভোট।

নির্বাচন কমিশনের হালনাগাদ তথ্যে জেলায় ভোটার ২৩ লাখ ৩১ হাজার ১৯৫ জন। এবারের নির্বাচনে ভোট দিয়ছেন ৫৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ।

এদিকে জামায়াতের সাথে জোট ছেড়ে যাওয়া ইসলামী আন্দোলন ৪টি আসনে ভোট পেয়েছে ৩৮ হাজার ৬শ’ ৩০ ভোট। ২০০৪ সালে আ’লীগের সাথে জোট হওয়া বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্ট মোমবাতি প্রতীকে তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পেয়েছে ৭ হাজার ১৫৪ ভোট। শুধু তাই নয়, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ বাহদুর শাহ চেয়ার প্রতীকে চাঁদপুর-৫ আসন থেকে পেয়েছেন ১৩ হাজার ১৭৮ ভোট। তিনিও জামানত হারিয়েছেন।

অন্যদের মধ্যে জামানত হারিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের ৩ প্রার্থী মো. জাকির হোসেন, মো. এনায়েত হোসেন ও মো. গোলাপ হোসেন। এছাড়া স্বতন্ত্র ঘুড়ি প্রতীকের জাকির হোসেন, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির কাস্তে প্রতীকের মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতীকের জাকির হোসেন প্রধানিয়া, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের আপেল প্রতীকের মো. মাহমুদুল হাসান নয়ন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির আনারস প্রতীকের নাসিমা নাজনিন সরকার, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির হাতি প্রতীকের মো. ফয়জুন্নুর ও নাগরিক ঐক্যের কেটলি প্রতীকের মো. এনামুল হক।

চাঁদপুর-১ (কচুয়া) : এই আসনে বিএনপি’র ধানের শীষের প্রার্থী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ১ লাখ ৩ হাজার ৩২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী আবু নছর মোহাম্মদ মকবুল আহমেদ পেয়েছেন ৭০ হাজার ৩৬৮ ভোট। জামানত হারানো প্রার্থীদের মধ্যে গণফোরামের মোহাম্মদ আজাদ হোসেন ৩২৯, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন ৪ হাজার ৩৭১, গণঅধিকার পরিষদের মো. এনায়েত হোসেন ২১৭ ও জাতীয় পার্টির হাবিব খান ৬৫২ ভোট পেয়েছেন।

চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ) : এই আসনে বিএনপি’র ধানের শীষের প্রার্থী মো. জালাল উদ্দিন ১ লাখ ৭২ হাজার ৫০৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এলডিপি’র ছাতা প্রতীকের প্রার্থী মো.বিল্লাল হোসেন পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৪৭৩ ভোট। জামানত হারানো প্রার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশ লেবার পার্টির নাসিমা নাজনিন সরকার ২৮৩, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি মো. ফয়জুন্নর ৫০৯, গণঅধিকার পরিষদের মো. গোলাপ হোসেন ৩১৫, নাগরিক  ঐক্যের মো. এনামুল হক ১৪৩, ইসলামী আন্দোলনের মানসুর ১২ হাজার ৩০৭, জাতীয় পার্টির এমরান হোসেন মিয়া ১ হাজার ৩২৮ ভোট।

চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) : এই আসনে বিএনপি’র ধানের শীষের প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ ১ লাখ ৬৫ হাজার ৪০৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. শাহজাহান মিয়া দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৮৬৫ ভোট। জামানত হারানো প্রার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এ.এইচ.এম. আহসান উল্লাহ ২ হাজার ২৭৪, ইসলামী আন্দোলনের মো. জয়নাল আবদিন শেখ ১৪ হাজার ১৮১, গণঅধিকার পরিষদের মো. জাকির হোসেন ১৩২, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ৬৭৬, গণফোরামের সেলিম আকবর ৩০৭ ভোট।

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) : এই আসনে স্বতন্ত্র চিংড়ি প্রতীকের প্রার্থী এম এ হান্নান ৭৪ হাজার ১৭৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী বিএনপি’র ধানের শীষ প্রতীকের মো. হারুনুর রশিদ ৬৯ হাজার ১৫৫ ভোট এবং জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৬৯২ ভোট। জামানত হারানো প্রার্থীদের মধ্যে স্বতন্ত্র জাকির হোসেন ১৮৪ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের মকবুল হোসাইন ৫ হাজার ২৬১, জাতীয় পার্টির মাহমুদুর হাসান ২৭৭ ভোট, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. আবদুল মালেক ৫০৯, গণফোরামের মো. মুনীর চৌধুরী ২৪০ ভোট পেয়েছেন।

চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) : এই আসনে বিএনপি’র ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. মমিনুল হক ১ লাখ ৮৫ হাজার ৪০৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী এলডিপি’র ছাতা প্রতীকের প্রার্থী মো. নেয়ামুল বশির পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৬৬০ ভোট। জামানত হারানো প্রার্থীদের মধ্যে জাতীয় পার্টির মির্জা গিয়াস উদ্দিন ১ হাজার ৫১৬, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ আলী পাটোয়ারী ৬ হাজার ৬৮১, স্বতন্ত্র মো. জাকির হোসেন প্রধানিয়া ২৬৮, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. মাহমুদুল হাসান নয়ন ২৫৬, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের সৈয়দ বাহাদুর শাহ্ মুজাদ্দেদী ১৩ হাজার ১৭৮ ভোট পেয়েছেন।

চাঁদপুর-৩ আসনের জামানত হারানো প্রার্থী এ এইচ এম আহসান উল্লাহ বলেন, জামানত হারানো প্রার্থীদের নিজ দলের তৃণমূল সাংগঠনিকভাবে দুর্বল। তাই নির্বাচনে ভালো করা কঠিন। তার মতে সাংগঠনিক কার্যক্রম সক্রিয় করা প্রয়োজন।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চাঁদপুরের সভাপতি অধ্যক্ষ মোশারেফ হোসেন বলেন, আসলে নিজেকে পরিচিতির জন্য এমন নির্বাচনে অনেকে প্রার্থী হয়। আবার নির্বাচন কমিশনের শর্ত পূরণের জন্যও প্রার্থী দিয়ে নিয়ম রক্ষা করেন। এছাড়াও ছোট দলগুলোর জয় পরাজয় বা জামানত বাজেয়াপ্ত তাদের বড় বিষয় নয়, দলকে টিকিয়ে রাখতে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করতে হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
#
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat