পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলকে স্বাগতিক হিসেবে ইসলামাবাদে বৈঠকের আয়োজন করবে পাকিস্তান।
ইসলামাবাদ থেকে এএফপি জানায়, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় জানান, ‘আমি উভয় দেশের নেতৃত্বের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি এবং তাদের প্রতিনিধিদলকে আগামী শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ ইসলামাবাদে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, যাতে সব বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তির জন্য আলোচনা এগিয়ে নেওয়া যায়।’
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে পাকিস্তান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং প্রতিবেশী ইরানের পরিস্থিতির প্রতি সংবেদনশীলতার কারণে ইসলামাবাদের এই ভূমিকা গুরুত্ব পেয়েছে।
শরিফ বলেন, ‘আমরা আন্তরিকভাবে আশা করছি যে ‘ইসলামাবাদ আলোচনা’ টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় সফল হবে এবং আগামী দিনগুলোতে আরও ভালো খবর দিতে পারবো।’
তেহরান ও ওয়াশিংটন উভয়ই জানিয়েছে, ট্রাম্পের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা আগে তারা দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর সংঘাতের সূচনা হয়। এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলো ও ইসরাইলের ওপর পাল্টা হামলা চালায়।
ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরাইলের ওপর হামলা চালানোর পর লেবাননও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এর পর থেকে ইসরাইল দেশটিতে বিমান হামলা এবং দক্ষিণাঞ্চলে স্থল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
শরিফ দাবি করেন, এই যুদ্ধবিরতি ‘সর্বত্র’ কার্যকর, লেবাননও এর অন্তর্ভুক্ত। তবে ইসরাইল পরে জানায়, লেবাননের ক্ষেত্রে এই যুদ্ধবিরতি প্রযোজ্য নয় এবং সেখানে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এই অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি এসেছে এমন এক সময়, যখন পাকিস্তানসহ বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী দেশ ট্রাম্পের ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলো ধ্বংসের হুমকি প্রতিহত করার চেষ্টা চালাচ্ছিল। আইন বিশেষজ্ঞরা এমন হামলাকে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্ক ও মিশরও মধ্যস্থতায় সহায়তা করেছে, আর চীন ইরানকে আলোচনায় আনতে ভূমিকা রেখেছে বলে ট্রাম্প জানিয়েছেন।
ইরানের সঙ্গে অতীতে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ওঠানামা থাকলেও বর্তমানে ইসলামাবাদের সঙ্গে উভয় দেশের সম্পর্ক উষ্ণ। সৌদি আরব ও বেইজিংসহ আঞ্চলিক শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অবস্থান আরও জোরদার হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইরানের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিয়া মুসলিম জনসংখ্যার দেশ পাকিস্তান, যার সঙ্গে ইরানের প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এছাড়া ওয়াশিংটনে ইরানের কোনো দূতাবাস না থাকায় পাকিস্তান সেখানে ইরানের কিছু কূটনৈতিক স্বার্থও প্রতিনিধিত্ব করে।