সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়কে সকল নারী ও শিশুর আস্থার জায়গা তৈরিতে কাজ করেছি।
তিনি বলেন, একটি স্বৈরশাসনের পরিপ্রেক্ষিতে বৈষম্যহীন, মানবিক, উদার ও জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্র তৈরিতে আমরা এসেছিলাম। এ মন্ত্রণালয় দুটোর যে দুর্বল দিকগুলো ছিল তা সংস্কারের জন্য এই ১৬ মাস নিষ্ঠার সাথে কাজ করেছি।
আজ অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে নারী ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে গৃহীত কার্যক্রম ও অর্জন বিষয়ে নারী ও শিশু মন্ত্রণালয় আয়োজিত বিদায়ি অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা নিরসনে ‘পাশে আছে’ প্রকল্পের মাধ্যমে ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠন করে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যন্ত সর্বক্ষণিক সেবা, স্বাস্থ্য, আইনি সহায়তা, কাউন্সেলিং ও আশ্রয় কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জুলাই কন্যাদের শনাক্তকরণ ও সংখ্যা নিরূপণ, তাদের জীবনের গল্প সংরক্ষণ এবং পুনর্বাসন পরিকল্পনার মাধ্যমে নির্ভরযোগ্য একমাত্র ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ডাটাবেজ তৈরি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান বাস্তবতার আলোকে জেন্ডার সমতা বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায় বিচার ও আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে বিদ্যমান কাঠামো রূপান্তর করে জেন্ডার সমতা উৎকর্ষ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করার কার্যক্রম অনুমোদন করা হয়েছে।
শারমীন এস মুরশিদ বলেন, কর্মক্ষেত্রে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, ২০২৬ দ্বারা যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নিশ্চিত করে একটি নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ আইনি কাঠামো, কর্মপরিধি প্রদান করা হয়েছে। পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, ২০২৬ দ্বারা পরিবারের নারী ও শিশুর অধিকার মর্যাদা ও পুনর্বাসনকে অগ্রাধিকার দিয়ে সহিংসতার বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতির বাস্তব প্রতিফলন করা হয়েছে।
এ মন্ত্রণালয়ের যে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে গেলাম, তা ভবিষ্যতে যে নতুন সরকার আসবেন তারা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন এবং এ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় দুটোর সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে সুনাম অক্ষুণ্ন রাখবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদের সভাপতিত্বে বিদায়ি অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের সকল স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।