ব্রেকিং নিউজ :
আমরা নির্বাচিত হলে একটা ভালো বাংলাদেশ গড়ে তুলবো: মির্জা ফখরুল আলী রীয়াজের সাথে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ দলের বৈঠক জয়পুরহাটে বিএনপির নির্বাচনী জনসভা ও মিছিল চুয়াডাঙ্গায় বিএনপির নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত মেহেরপুর-১ আসনে সিপিবি প্রার্থীর ইশতেহার ঘোষণা পিরোজপুরে বিএনপির নির্বাচনী জনসভা ভোট নিয়ে ষড়যন্ত্র হলে প্রতিহত করা হবে : মির্জা আব্বাস ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, রাষ্ট্র সংস্কারই দেশের প্রধান প্রয়োজন : মাওলানা মামুনুল হক জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ : দলমত নির্বিশেষে নিরাপদ দেশ গড়ার অঙ্গীকার তারেক রহমানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, ইউএনডিপির দুটি নতুন প্রকল্প চুক্তি স্বাক্ষর
  • প্রকাশিত : ২০২৬-০২-০৯
  • ৬৫৭৬৭৬৮ বার পঠিত
  • নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়তাবাদের জোয়ারে চমকপ্রদ নির্বাচনী জয়ের পর সোমবার জোট সরকার গঠনের আলোচনা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন থাইল্যান্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল।

সীমান্তে কম্বোডিয়ার সঙ্গে গত বছর দুই দফা প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সামরিকপন্থী ও রাজতন্ত্রসমর্থক ভূমজাইথাই পার্টি তাদের ইতিহাসের সেরা ফল লাভ করেছে।

ব্যাংকক থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

রক্ষণশীল এই দলটি জাতীয়তাবাদী আবেগকে কাজে লাগিয়ে বড় ধরনের উত্থান ঘটায়।

তবে নির্মাণশিল্পের প্রভাবশালী পরিবার থেকে উঠে আসা অনুতিনকে এখন দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সামাল দিতে হবে। একই সঙ্গে অঞ্চলজুড়ে সক্রিয় বহু বিলিয়ন ডলারের সাইবার প্রতারণা চক্র নিয়ে তৈরি চাপও মোকাবিলা করতে হবে তাকে।

থাম্মাসাত বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিষয়ের প্রভাষক ভিরোট আলি বলেন, ‘গত তিন মাসে থাইল্যান্ড যেভাবে এগিয়েছে, সেভাবেই এগোবে। থাকবে জাতীয়তাবাদ, কম্বোডিয়া বিষয়ে কঠোর অবস্থান ও অর্থনৈতিক নীতিতে ধারাবাহিকতা। কিছুই বদলাবে না।’

স্থানীয় গণমাধ্যমের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববারের ভোটে ভূমজাইথাই প্রায় ২০০ আসন পেতে পারে। এটি অন্য সব দলের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকলেও ৫০০ আসনের নিম্নকক্ষে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যথেষ্ট নয়।

সংস্কারপন্থী পিপলস পার্টি প্রায় ১২০ আসন নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তৃতীয় অবস্থানে আছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার ফেউ থাই দল।

নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, ২০২৩ সালের নির্বাচনের তুলনায় এই দুই দলের ভোটের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এতে বোঝা যায়, ভোটাররা তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

কম্বোডিয়া সীমান্ত বিরোধ সামলাতে ব্যর্থ হওয়ায় পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা প্রধানমন্ত্রীর পদ হারানোর কারণে ফেউ থাই দলের ফল ইতিহাসের অন্যতম খারাপ অবস্থানে পৌঁছেছে।

দুর্নীতির দায়ে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে থাকসিন বর্তমানে এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তবে অনেক পর্যবেক্ষকের ধারণা, রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে নির্ধারিত সময়ের আগেই তার মুক্তি হতে পারে।

সিঙ্গাপুরের আইএসইএএস ইউসুফ ইসহাক ইনস্টিটিউটের অ্যাসোসিয়েট সিনিয়র ফেলো পল চেম্বার্স এএফপিকে বলেন, জাতীয়তাবাদ ও রাজতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকারকে সামনে রেখে প্রচার চালানোয় ভুমজাইথাই বিজয় অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, ফাঁস হওয়া একটি ফোনালাপের জেরে ফেউ থাইয়ের চলমান অজনপ্রিয়তাও রক্ষণশীলদের লাভবান করেছে। ওই ফোনালাপে পেতংতার্ন কম্বোডিয়ার সাবেক নেতা হুন সেনকে ‘চাচা’ বলে সম্বোধন  করেন এবং এক থাই সামরিক কমান্ডারকে নিজের ‘প্রতিপক্ষ’ বলে অভিহিত করেন।

ফাঁস হওয়া ওই তথ্য ঘিরে দেশজুড়ে জনমত ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। নৈতিকতা লঙ্ঘনের অভিযোগে পরে সাংবিধানিক আদালত তাকে পদ থেকে বরখাস্ত করে।

তবে ভুমজাইথাই সীমান্ত বিরোধ সংক্রান্ত কেলেঙ্কারির জেরে জোট ছাড়ার আগ পর্যন্ত মিত্র থাকায়, ফেউথাইকে এখনও অনুতিনের সম্ভাব্য জোটসঙ্গী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব নেওয়া অনুতিন রোববার সম্ভাব্য জোট আলোচনা নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলাফল এখনও আনুষ্ঠানিক নয়।

অনুতিন বলেন, ‘পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করব। প্রতিটি দলকে তাদের নির্বাহী বোর্ডে বসে অবস্থান নিয়ে আলোচনা করতে হবে।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষক নাপন জাতুস্রিপিতাকের ধারণা, ভুমজাইথাই দ্রুত সরকার গঠনের পথে এগোবে, যাতে দলটির স্বার্থ প্রাধান্য পায়।

ভোটারদের ভাবনায় সবচেয়ে গুরুত্ব পেয়েছে কম্বোডিয়ার সঙ্গে চলমান সংঘাত। ওই সংঘর্ষে দুই পক্ষেই বহু মানুষ নিহত হন। বাস্তুচ্যুত হন মোটামুটি ১০ লাখ মানুষ।

পেতংতার্ন অপসারিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই অনুতিন সীমান্তে প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো ব্যবস্থা নিতে সশস্ত্র বাহিনীকে অনুমোদন দেন।

ডিসেম্বরে সর্বশেষ দফার সংঘর্ষে থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী কয়েকটি বিতর্কিত এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়। বর্তমানে সেখানে একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাস সামরিক অভ্যুত্থান, রক্তক্ষয়ী রাজপথের আন্দোলন ও বিচারিক হস্তক্ষেপে ভরপুর।

২০১৪ সালের সর্বশেষ সামরিক অভ্যুত্থানের পর সেনা শাসনের অধীনে প্রণীত সংবিধানে সিনেট মনোনীত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হাতে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই সিনেট সরাসরি নির্বাচিত নয়।

রোববারের গণভোটে প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটার নীতিগতভাবে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট সংস্কার প্রস্তাব সেখানে ছিল না।

এখন সংস্কার প্রক্রিয়ার দিকনির্দেশনা দেওয়ার অবস্থানে থাকবে ভুমজাইথাই। তবে দলটির রক্ষণশীল প্রবণতার কারণে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
#
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat