• প্রকাশিত : ২০২৬-০২-০৯
  • ৪৬৬৫৭০৭ বার পঠিত
  • নিজস্ব প্রতিবেদক
যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের কারণে কিউবা এক মাসের জন্য বিমান জ্বালানি সরবরাহ স্থগিত করছে। ইউরোপীয় একটি এয়ারলাইনের এক কর্মকর্তা রোববার এ তথ্য জানিয়েছেন।

কিউবার কর্তৃপক্ষ দেশটিতে যাতায়াতকারী এয়ারলাইনগুলোকে জানিয়েছে, সোমবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে তারা কিউবায় জেট ফুয়েল নিতে পারবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ কথা বলেন। 

ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কিউবা চরম সংকটে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর এই তেল সরবরাহ বন্ধের নির্দেশ আসে। 

এর ফলে কিউবা থেকে দূরপাল্লার ফ্লাইট পরিচালনাকারী বিমানগুলোকে আকাশ যাত্রার পর অন্য কোনো স্থানে থেমে জ্বালানি নিতে হবে। 

কিউবার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে ওই কর্মকর্তা এ তথ্য জানান। 

হাভানা থেকে এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

এয়ার ফ্রান্স জানিয়েছে, তাদের বিমানগুলো ক্যারিবীয় অঞ্চলের অন্য কোনো দেশে থেমে জ্বালানি নেবে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কিউবার সরকার শুক্রবার জরুরি ব্যবস্থা ঘোষণা করে। এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করা ও জ্বালানি বিক্রিতে বিধিনিষেধ।

কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে প্রদেশগুলোর মধ্যে বাস ও ট্রেন চলাচল কমানো হবে। 

কিছু পর্যটন প্রতিষ্ঠানও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে।

স্কুলের ক্লাসের সময় কমানো হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সরাসরি উপস্থিতির শর্ত শিথিল করা হবে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন।

চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর হাভানার প্রধান মিত্র ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

এ ছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। এতে কিউবায় তেল বিক্রি করা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা হয়।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের হুমকির মুখে ২০২৩ সাল থেকে কিউবায় তেল সরবরাহকারী মেক্সিকোও তেল দেওয়া বন্ধ করবে।

তেলের ঘাটতির কারণে কিউবা পুরোপুরি অন্ধকারে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বিদ্যুৎ সরবরাহ ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র কিউবার কমিউনিস্ট নেতৃত্বাধীন সরকারকে দুর্বল বা উৎখাত করার চেষ্টা করে আসছে।

হাভানা অভিযোগ করেছে, ট্রাম্প কিউবার অর্থনীতির পথ অবরূদ্ধ করতে চান। 

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় যে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও জ্বালানি সংকট প্রায়ই দেখা দিচ্ছিল, তা এখন তীব্রতর হয়েছে।

কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াস-কানেল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে তার দেশ প্রস্তুত। তবে তা কোনো ধরনের চাপের মুখে নয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
#
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat