উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দেশটির জীবনমান উন্নয়নের অঙ্গীকার করেছেন। বিরল পার্টি কংগ্রেসের উদ্বোধনী ভাষণে তিনি অর্থনৈতিক পুনর্গঠন জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বলে শুক্রবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
সিউল থেকে এএফপি জানায়, শ্রমিক পার্টির কংগ্রেসে উদ্বোধনী বক্তব্যে কিম বলেন, ‘আজ আমাদের পার্টির সামনে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং রাষ্ট্র ও সামাজিক জীবনের সব ক্ষেত্র দ্রুত রূপান্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি ঐতিহাসিক দায়িত্ব রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এক মুহূর্তের স্থবিরতাও মেনে না নিয়ে আমাদের আরও সক্রিয় ও ধারাবাহিক সংগ্রাম চালাতে হবে।’
পাঁচ বছর পরপর অনুষ্ঠিত এই কংগ্রেসে আবাসন নির্মাণ থেকে যুদ্ধ পরিকল্পনা—রাষ্ট্রীয় নীতির বিভিন্ন দিক নির্ধারণ করা হয়। গোপনীয়তায় আচ্ছাদিত দেশটিতে এটি বিরল এক রাজনৈতিক আয়োজন, যা শাসনব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ চিত্রের আভাস দেয়।
দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতাকে অগ্রাধিকার দিলেও ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর কিম অর্থনীতি শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা জোর দিয়ে আসছেন। ২০২১ সালের কংগ্রেসে তিনি অর্থনৈতিক উন্নয়নের ‘প্রায় সব ক্ষেত্রেই’ ভুল হয়েছে বলে বিরল স্বীকারোক্তি দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, খাদ্যসংকট, উচ্চ সামরিক ব্যয় এবং ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সমর্থনের কারণে সৃষ্ট জনঅসন্তোষ মোকাবিলায় এমন বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।
কিম দাবি করেন, গত পাঁচ বছরে উত্তর কোরিয়া ‘সবচেয়ে কঠিন সময়’ অতিক্রম করেছে এবং এখন ‘আশাবাদ ও ভবিষ্যৎ আত্মবিশ্বাসের’ নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে।
পিয়ংইয়ংয়ের হাউস অব কালচারে আয়োজিত কংগ্রেসে হাজারো পার্টি নেতা অংশ নেন। কিম পরিবারের শাসনামলে এটি নবম পার্টি কংগ্রেস।
চীন ও রাশিয়ার ক্ষমতাসীন দলগুলো কংগ্রেস উপলক্ষে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছে। গত বছর বেইজিংয়ে এক সামরিক কুচকাওয়াজে কিম চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে উপস্থিত হন।
পাঁচ বছর আগে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসে কিম যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সবচেয়ে বড় শত্রু’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এবার তিনি অবস্থান নরম করবেন নাকি আরও কঠোর হবেন—তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে আগ্রহ রয়েছে।
গত বছর এশিয়া সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিমের সঙ্গে বৈঠকে ‘শতভাগ’ প্রস্তুত থাকার কথা বলেছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সংলাপ পুনরায় শুরুর উদ্যোগে কিম তেমন সাড়া দেননি।